লেখক

Sujit

I am me, me who hide thousands of words.
S

২৪

২৪

গল্পঃ হলেও সত্যিই? 😅

একটি অনুষ্ঠান সেখানে তোমার উপস্থিত থাকবেনা তা হয় বল! আমি জানি তুমি দিব্যি ভাল আছ, তোমার নব্য প্রেমিক কে নিয়ে। কিন্তু জান?আমি সত্যি তোমাকে চেয়েছিলাম। খুব চেয়েছিলাম।কিন্তু আমি কি জানি, আমার একটু কমতি হলেই তুমি অন্য কারো হয়ে যাবে।বোকা আমি ভাবতাম আমাকেই তুমি ভালবাস, আমি এই তোমার সব।

আমার সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার মানে কি তাহলে! পেট পুরে খেতে? ধুর! অবশ্যই তোমাকে দেখার, তোমাকে পাবনা জেনেও তোমাকে পাওয়ার তীব্র আকাঙা নেওয়ার।

তুমি জান? আমি না, ভুলে অন্য পথে চলে গিয়েছিলাম, এই ভুল না গেলে হয়ত তোমার সাথে কখনও কোনদিন দেখা হতনা। মিরাকেল আর কি।

সে অনেক পথ পারি দিয়ে যখন নদী পারে রাস্তার মোর নিয়ে লঞ্চ ঘাটার দিকে অগ্রসর হব। হঠাৎ বুকটা ধুক করে অজানা ভয়ে কেপে উঠলো।

সামনে যতনা – একপা দুপা করে আগাচ্ছি, একটি মেয়ে ও ৩-৪ জন ছেলে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি।

আর বুকটা আরও ধুক ধুক করে কাপতে শুরু করল, আচ্ছা এই কি তুমি? তুমি তোমার সেই নব্য প্রেমিক! সত্যিই?প্লিজ প্লিজ এটা যেন তুমি না হও। এভাবে ভেবে আগাচ্ছি আমি।তুমি জান, তোমার প্রেমিক আমার নজরে বার বার নজর মিলাচ্ছিল।আর তুমি ছিলা তোমার প্রেমিকের বাহুডোরে। তোমাকে চাদর পড়িয়ে দিচ্ছিল। তোমাকে আদর করছিল।

জানো আমি সত্যিই তখন নিজেকে বুঝাচ্ছিলাম এটা তুমি না, অন্য কেউ।

কিন্তু তবুও তো আমি জানি, আমার মন জানে এটাই তুমি।

তুমি তখনও আমাকে দেখোনি, লঞ্চ এল, আমি এগিয়ে ঘাটের নিচে নেমে নদীর দিকটাতে তাকিয়ে ছিলাম কিছুক্ষন, আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম, তুমি আমাকে পিছন থেকে দেখতেছ।

সবাই উঠলাম, আমি কেন জানিনা, তোমার চোখে একবার তখন তাকিয়ে ছিলাম। তুমি হয়ত একটু দেখেছিলে আমাকে।

তারপর, আমার ধুক ধুক থেমে গেল, মনে হল আমি শীতের হীমেল হওয়ায় একদম পাথর হয়ে গেছি। কিছু অনুভব করতে পারছিনা, মনে হয় যেন মরে যেতে পারতাম।

আমি জানো, তোমাদের মিষ্টি প্রেম দেখেছি। তোমাদের খুব হাসতে দেখেছি। তোমাদের দুজন-দুজনকে ভালবাসতে দেখেছি।

আমি আর তখন কিছু ভাবতে পারিনি।

পাথর হয়ে কিছু সময় কাটিয়ে দিলাম। লঞ্চ ভিরলো, সবাই নেমে গেল, হঠাৎ হুশ হল, ওহ হ্যাঁ আমারও নামতে হবে।

নেমে হেঁটে চলে যেতে চাইলাম তোমার থেকে খুব দূরে। ক্ষণিক বাদে তোমার চোখে আমার চোখ কিছু সময়ের জন্য  একবার পড়েছিল। আমি ইচ্ছা করেই না বোঝানোর ভান করছিলাম।

কিন্তু জান আমার ইচ্ছা করছিল, তোমাকে বাইক থেকে নামিয়ে জোরে বুকে জড়িয়ে ধরে বলতে চেয়েছিলাম, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। তুমি শুধুই আমার।

কিন্তু আমি জানি, তুমি তোমার বেস্ট মানুষকে পেয়ে গেছ। তোমার ভালোবাসাকে পেয়েছ। তুমি খুব হ্যাপি আছ।

আমি তোমাকে অনুষ্ঠানে দেখার জন্য ছটফট করছিলাম, তুমি আসোনি, আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি।

চলে আসছিলাম, আর তারপর সব নিচ্চুপ, ৫ টি দিন আমি , তুমি ও তোমার প্রেমিকের ভালবাসার মোমেন্টস এক মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারিনি।

আমি তোমাকে কোনদিন ভুলতেও চাইনা।

তুমি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছ, যা সত্যিই তা, মিথ্যেও হতে পারে।

ভালবাসা, কাছে থাকার প্রমিজ, তোমাকে ছাড়া কিছু চাইনা বলা কথা, সব কিছু ভুলে নতুন করে জীবন সাজাতে হয় যেভাবে।

বিশ্বাস টা একদম ভেঙে চুরমার করে দিছ। আর শক্তি নেই।

আমি জানি আমি তোমাকে বিরক্ত করছি। আর করবনা বন না।

রাত ১ টা বেজে ৪ মিনিট, শেষের লাইন লিখে একটু আলসে দিয়ে প্রত্যয় বলে উঠল, এইসব জিনিস কে লিখে ভাই। তাও গল্পঃ আকারে অনলাইন আজকের পত্রিকাতে প্রেম ক্যাটাগুরিতে। যাক, আমার যেন এরকম উদ্ভট ঘটনা না হয়। কম্পিউটার কে সময় দিয়ে পারিনা আমার আবার প্রেম। হাহাহা।

যদি হঠাৎ কেউ চলে যায়

হঠাৎ তোমাকে কোনদিন পাওয়া না যায়, তোমার সাথে কথা বলা না যায়! কেমন অনুভূতি হবে আমার? অথবা যে চলে যায় তার প্রিয়জনদের?

মৃত্যু, যা সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত সত্যের নাম। আমাদের সবার একদম অনিচ্ছা সত্বেও বরণ করতে হবে এই সৃষ্টির সেরা বেদনাদায়ক জিনিস।

ভাবতেই গায়ের পশমগুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ, তুমি পাড়ি জমালে অন্য জগতে! তুমি ঠিকই দিব্যি চলে গেলে। যারা তোমার প্রিয়জন তাদের কি হবে? তারা এখনো বেঁচে আছে, এবং তুমি তাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলে।

তারা কিভাবে তোমাকে ছাড়া থাকবে? তোমার রেখে যাওয়া স্মৃতি তারা কিভাবে ভুলবে? কি তীব্র ব্যথা, তীব্র কষ্ট, জ্বালা!

সময়ের তালে তালে সব ঠিক হয়ে যায়, কষ্ট কমে যায়, আদৌ কি ভোলা যায়? না যায় না কখনোই যায়না। স্বার্থপর হয়ে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় শুধু।

আমি এখন আছি, কাল নাও থাকতে পারি। আমি এখন লিখছি আর কোনদিন নাও লিখতে পারি। আমার কাছের কিছু মানুষ আছে, যারা চলে গেলে আমি সত্যিই একদম ভেঙে পড়বো।

সবার মৃত্যু হোক সুন্দর, এটাই কাম্য।

আমার খুব কাছের একজন মানুষ নাম সিফাত রাব্বি, গতকাল ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ কাজ করা অবস্থায় ক্রেনের চাকার নিচে পড়ে মারা যান।

ক’মাস আগে তার সাথে কথা হয়েছিল আমার, তার সাথে খুব সুন্দর একটি সম্পর্ক ছিল। বলতে গেলে ১.৫ বছর আমাদের সম্পর্ক। ভাই, বন্ধুত্ব সবই ছিল। আমরা আমাদের অনেক পার্সোনাল কথা শেয়ার করেছি। আমাকে অনেক গেজেট সাজেস্ট করে কিনে দিয়েছিল। দেখা হতে হতে দেখা হয়নি তার সাথে আমার। আর কোনদিন দেখা হবেও না। ফোন দিব দিব ভাবছিলাম কিন্তু আর দেয়া হয়নি।

তার চলে যাওয়ার বয়স এখনো হয়নি। কেন তার চলে যেতে হবে? আমি কিভাবে এই মৃত্যু মেনে নিব? কেন এই অদ্ভুত মৃত্যুর খেলা আমাকে মেনে নিতে হবে?

তোমাকে খুব মিস করছি এবং করব সিফাত।

ভালো থেকো সিফাত 😔

সেক্সী 🙂

ইউ ক্যান রিড:

স্পর্শে অনুভব

অনুভবে খুব ভালোবাসা যায়। স্পর্শ করার স্বাদ উপভোগ করা যায়।

জানো! বাইরের বাতাসে আমি তোমার স্পর্শ অনুভব করি। মনে হয় এই বাতাসে তোমার হাতের ছোঁয়া, তোমার শরীরের গন্ধ লেগে আছে।

মনে হয়, বাতাসে তোমার চুম্বন লেপ্টে আছে যেটা আমি অনুভব করি। আমি অনুভব করি তুমি ওই চাঁদ টাই দেখছো, যেটা আমি এখন দেখছি।

তোমার শুভ্র হাতের স্পর্শে ছুঁয়ে যাওয়া নদীর জল, সে সলিল আমি ছুঁয়ে তোমাকে অনুভব করি।

অনুভব করি তুমি যে পথ দিয়ে তোমার পদচিহ্ন রেখে গেছো, সেই পদচিহ্ন এ হেঁটে হেঁটে তোমাকে অনুভব করি।

কি অদ্ভুত মায়া, কি অদ্ভুত তোমার স্পর্শ। আমি ইচ্ছে করলেই অনুভব করতে পারি তোমাকে।

কারণ এটা যে শুধু আমার ব্যক্তিগত অনুভব, যা শুধুই আমার।

নির্বাক

আসলে কি লিখবো, বুঝে উঠতে পাচ্ছিনা। কি করা উচিত, কেন করা উচিত, উত্তরের নাগাল নেই। মনে হচ্ছে প্রকট বিদ্যুতের প্রবাহ, আমার সারা শরীরে বইছে। ক্লান্ত পথিকের পরিশ্রান্ত দেহের মত, আমার মন মরে আছে।

শক্তি নেই, বুদ্ধি নেই, কথা নেই, কোন সুর নেই। নির্বাক যেন আমাকে হতেই হবে, লুপ্ত হয়েছে সর্বস্ব।

যেটা হবেনা, সেটা ভাবতে দারুন ভাল লাগে। ভাবতে পারি অনেক, কিন্তু বলতে পারিনা, কারন আমি তো নির্বাক। ফিরিয়ে কি পাওয়া সম্ভব না প্রাঞ্জল, চঞ্চল প্রান?

বাকরুদ্ধ হয়ে যদি সত্যি কোনদিন কিছু না বলতে পারি?

চাপা ব্যথা যদি অনুভব করে করে একদিন বিলীন হয়ে যাই? এতে আদোই কিছু কি হবে? হাহাহা, বোকা আমি আসলেই বোকা।

Recent Posts